বড় কর্তারা আড়ালে, বলির পাঁঠা মাঠপর্যায়ে | তদন্ত রিপোর্ট

বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ১১:০৪ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম
বড় কর্তারা আড়ালে, বলির পাঁঠা মাঠপর্যায়ে জনবল, ওষুধ ও বিদ্যুৎহীন স্বাস্থ্যকেন্দ্র যেনও নিজেই অসুস্থ্য! গোয়াইনঘাটে শিক্ষক বেলাল উদ্দীনের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ গোয়াইনঘাটে গরু থেকে মালয়েশিয়ার রিটার্ন টিকিটও ঘুষ নেন শিক্ষা কর্মকর্তা! সমাজসেবায় নিবেদিত মোহাম্মদ কামরুল কায়েস চৌধুরী নীরবতার আড়ালে ঝুঁকিপূর্ণ রাজনীতি: বাংলাদেশ যাচ্ছে কোন পথে? কানাইঘাট মাদক-চোরাচালানে পুরোদমে বেপরোয়া ইয়াসিন: নির্বিকার পুলিশ! সিলেটে চোরাই বাণিজ্যে বিএনপি নেতা রুস্তমের উত্থান, প্রশ্নবিদ্ধ শিবেরবাজার ফাঁড়ি জ্বীনের বাদশা গ্রেপ্তার দিরাই-শাল্লা সড়ক নির্মাণকাজে ধীরগতি
বড় কর্তারা আড়ালে, বলির পাঁঠা মাঠপর্যায়ে

বড় কর্তারা আড়ালে, বলির পাঁঠা মাঠপর্যায়ে

Manual1 Ad Code

বিশেষ প্রতিবেদক: জুলাইয়ের সেই উত্তাল দিনগুলোতে রাজপথ যখন রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছিল, তখন খাকি উর্দির আড়ালে পিষ্ট হয়েছিল হাজারো সাধারণ পুলিশ সদস্যের জীবন।

আন্দোলনের সেই অগ্নিগর্ভ সময়ে নীতিনির্ধারক ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা যখন নিরাপদ দূরত্বে থেকে নির্দেশ দিয়েছেন, তখন বুক পেতে দিতে হয়েছে মাঠপর্যায়ের কনস্টেবল থেকে শুরু করে এসআই পদমর্যাদার সদস্যদের। অথচ আজ সময় বদলেছে। বড় কর্মকর্তারা অনেকেই গা বাঁচিয়ে চললেও সব দায় আর অপবাদের বোঝা বইতে হচ্ছে সাধারণ পুলিশ সদস্যদের, যাদের অনেকেরই ছিল না কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা।

পরিবারের আহাজারি আর বোবা কান্না আন্দোলনের সময় নিহত বা আহত হওয়া পুলিশ সদস্যদের পরিবারের কান্নার শব্দ আজ আর কেউ শোনে না। অনেক সদস্যের পরিবার আজও আতঙ্কে দিন কাটায়। সন্তানের প্রশ্নড় “বাবা কেন বাড়ি আসে না?” কিংবা বৃদ্ধ মা-বাবার আর্তনাদড় “আমার ছেলে তো শুধু হুকুম পালন করেছিল, এই প্রশ্নগুলোর উত্তর দেওয়ার কেউ নেই। সাধারণ মানুষের চোখে পুলিশ মানেই অপরাধী, কিন্তু এই উর্দির ভেতরেও যে একজন বাবা, একজন স্বামী বা একজন সন্তান ছিল, সেই মানবিক দিকটি আজ চরমভাবে উপেক্ষিত। যত দোষ কেবল পুলিশের: সমাজে আজ একটি অলিখিত নিয়ম হয়ে । যত দোষ আর যাই ঘটুক না কেন, দোষ পুলিশের। লাইসেন্স না থাকলে ধরলে দোষ, আবার ছেড়ে দিলে ‘ঘুষখোর’ তকমা। জুলাই আন্দোলনে যারা মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেছেন, তাদের অনেকেই পরিস্থিতির শিকার ছিলেন। তারা না পেরেছেন দায়িত্ব ছাড়তে, না পেরেছেন হুকুম অমান্য করতে। অথচ আজ সব আইনি জটিলতা আর সামাজিক ঘৃণার শিকার হচ্ছেন তারাই।

Manual2 Ad Code

সাম্প্রতিক এই পরিস্থিতি নিয়ে সাপ্তাহিক তদন্ত রিপোর্ট পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মোঃ রায়হান হোসেন বলেন, “জুলাই আন্দোলনে আমরা দেখেছি কীভাবে বড় কর্মকর্তারা আড়ালে থেকে ছোটদের বিপদে ফেলেছেন। আজ যখন বিচারের প্রশ্ন আসছে, তখন মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যরাই সবচেয়ে বেশি বিপাকে। আইনের মারপ্যাঁচে ছোট ভুলগুলো বড় করে দেখা হচ্ছে। পুলিশ যদি কাউকে ছেড়ে দেয় তবে বলা হয় ঘুষ খেয়েছে, আর ধরলে বলা হয় হয়রানি করছে। এই দ্বিমুখী আচরণের কারণে পুলিশের বোবা কান্না শোনার কেউ নেই।”

Manual4 Ad Code

বেশিদিন আগের কথা নয়, যখন করোনা মহামারিতে মানুষ নিজের স্বজনদের ফেলে পালিয়েছিল, তখন এই পুলিশ বাহিনীই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানুষের দুয়ারে খাবার পৌঁছে দিয়েছে, লাশ দাফন করেছে। রিমঝিম বৃষ্টি আর তপ্ত রোদে যারা দিনরাত এক করে আমাদের নিরাপত্তা দিয়েছে, আজ তাদের সব অবদান যেন এক নিমিষেই ধুলোয় মিশে গেছে।

Manual3 Ad Code

উপসংহার দোষ-ত্রুটি হয়তো আছে, কিন্তু ঢালাওভাবে পুরো বাহিনীকে অপরাধী ভাবা এবং তাদের মানবিক কষ্টগুলো এড়িয়ে যাওয়া কোনো সুস্থ সমাজের লক্ষণ নয়। জুলাইয়ের আন্দোলনে প্রাণ হারানো বা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া সাধারণ পুলিশ সদস্যদের পরিবারের দীর্ঘশ্বাস আজ আকাশের বাতাসে ভাসছে। এই ‘বোবা কান্না’ বোঝার মতো সময় কি আমাদের হবে? নাকি অপবাদের বোঝা মাথায় নিয়েই তাদের চিরকাল চলতে হবে?

Manual3 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Add



© All rights reserved © tadantareport.com
Design BY Web WORK BD
ThemesBazar-Jowfhowo

Follow for More!

Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code
error: Content is protected !!